আদানি গ্রুপে বিনিয়োগ করা মরিশাসভিত্তিক দুটি ফান্ডকে শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছে ভারতীয় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই)। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ফান্ড দুটি এসইবিআইকে শেয়ারহোল্ডারদের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। কিছু নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০২৩ সালে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ট্যাক্স হ্যাভেনের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ, যা শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস নামায়। তখন থেকেই আদানি গ্রুপ ও এর সঙ্গে যুক্ত ১৩টি অফশোর বিনিয়োগকারী এসইবিআইয়ের তদন্তের আওতায় রয়েছে। আদানি গ্রুপ বারবার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং তাদের শেয়ারদর পুনরুদ্ধারও হয়েছে।
ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অন্তত ২৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকতে হয়। কিন্তু হিন্ডেনবার্গ অভিযোগ করেছিল যে আদানি গ্রুপ এ নিয়ম ভেঙেছে। কারণ আদানির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অফশোর ফান্ড এসব শেয়ার কিনেছে।
গত ২৮ মার্চের এক নথি অনুযায়ী, মরিশাসভিত্তিক ইলারা ইন্ডিয়া অপরচুনিটিজ ফান্ড ও ভেসপেরা ফান্ডকে ২০২৩ সাল থেকেই তাদের সব শেয়ারহোল্ডারদের ‘সুনির্দিষ্ট বিবরণ’ দিতে বলা হয়েছে। কারণ এ ধরনের ফান্ডের বিনিয়োগ বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও তারা আদানি গ্রুপে কেন্দ্রীভূত।
নথিতে বলা হয়েছে, এখনো পর্যন্ত এফপিআই (ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টরস) দুটি এসইবিআইকে এসব তথ্য দেয়নি। তারা কোনো কারণও জানায়নি। এ ধরনের বিলম্ব আদানি গ্রুপের ন্যূনতম পাবলিক শেয়ার ধারণ সম্পর্কিত নিয়ম মানা হয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
ফান্ড দুটি মরিশাসভিত্তিক হলেও তারা ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জে এফপিআই হিসেবে নিবন্ধিত। ফলে ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনেই পড়ে।
বিষয়টির সঙ্গে অভিহিত দুটি সূত্র জানায়, সংস্থা দুটি কোনো দোষ স্বীকার না করেই আর্থিক জরিমানা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করেছে।
অবশ্য এ ফান্ডগুলোর ঠিক কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে গত নভেম্বরে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানিসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি পাওয়ার জন্য ঘুষ লেনদেন এবং তহবিল সংগ্রহের সময় মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। যদিও আদানি গ্রুপ দাবি করছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আরো জানা গেছে, আদানি শেয়ারের বিনিয়োগকারী মরিশাসভিত্তিক আরো দুই অফশোর ফান্ড লোটাস ইনভেস্টমেন্ট ও এলটিএস ইনভেস্টমেন্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুরোধ সত্ত্বেও শেয়ার সম্পর্কিত তথ্য দেয়নি।